!!—তিতাসের জিএমসহ ৩৮ কর্মকর্তাকে বদলি—!!

অর্থনী‌তি

–তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ৩৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিতাসের কাঠামোর বাইরে গঠিত ১৮টি ভিজিল্যান্স টিমকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে অফিস আদেশ জারি করেছে তিতাস…!!

গতকাল মঙ্গলবার ও গত সোমবার তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাহমুদুর রবের সই করা চিঠিতে এসব কর্মকর্তাকে বদলি এবং ভিজিল্যান্স টিম বিলুপ্ত করা হয়। তিতাসের দুর্নীতি এবং অনিয়ম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকেই এসব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর আগে তিতাসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাসহ ৬০ জনকে বদলি করা হয়েছে এবং সাতজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তিতাস সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে তিতাসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিতে অফিস আদেশ জারি করা হচ্ছে…!!

দুর্নীতি দমন কমিশন চলতি মাসের ১৭ এপ্রিল তিতাসের অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে। দুদকের ওই প্রতিবেদনে তিতাসের ২২টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি ১২টি সুপারিশ করা হয়…!!

ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তিতাসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়। দুদকের সেই সুপারিশের আলোকেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা এবং একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক বদলির জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ২৯ এপ্রিল কঠোর নির্দেশনা দেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি কর্তৃপক্ষকে। এর পরই তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোস্তফা কামাল ৩৭ জন কর্মকর্তাকে বদলিসহ তিতাসের ১৮টি ভিজিল্যান্স টিম বিলুপ্ত ঘোষণা করে অফিস আদেশ জারি করেন…!!

তিতাস সূত্রে জানা গেছে, বদলিকৃত ৩৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে রেয়েছেন একজন মহাব্যবস্থাপক (জিএম), ১২ জন ব্যবস্থাপক, সাতজন উপব্যবস্থাপক, তিনজন সহকারী ব্যবস্থাপক ও একজন সহকারী কর্মকর্তা…!!

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিতাসের বিষয়ে দুদকের সুপারিশের আলোকেই আমরা তিতাসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। আমরা চেষ্টা করছি যেন মানুষ কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পেতে পারে। ইতিমধ্যে তিতাস থেকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন…!!

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতিবাজরা আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোথাও শান্তিতে থাকতে পারবে না। তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্পদ বিবরণীর তালিকা পেয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে…!!

দুদকের ট্রুথ কমিশনে দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছিলেন তিতাসের ভিজিল্যান্স টিমের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আব্দুল ওয়াদুদ।  তিতাসের আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ আব্দুল ওয়াদুদকেও বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া বদলিকৃত  ১২ জন ব্যবস্থাপক হলেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শাহজাদা ফরাজী, নারায়ণগঞ্জের জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাফরুল আলম, ঢাকা মেট্রোর প্রকৌশলী মো. নাসিমুল ইসলাম, গাজীপুর অপারেশন বিভাগের প্রকৌশলী নজীবুল হক, গাজীপুর চন্দ্রার মো. সুরুয আলম, ঢাকা মেট্রোর ১০ নম্বর জোনের প্রকৌশলী মামুনার রশিদ, টাঙ্গাইল আঞ্চলিক অফিসের মো. মামুনুর রহমান, ভিজিল্যান্স শাখার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের দেলুয়ার হোসেন, কিশোরগঞ্জের মো. আলী আজগর ও টিজিটিডিসিএল প্রকল্পের এ বি এম মিজানুর রহমান…!!

উপব্যবস্থাপক সাতজন হচ্ছেন—মানিকগঞ্জের  মো. আতিয়ার রহমান, সোনারগাঁও জোনাল অফিসের রেজাউল করিম খান, ঢাকা রাজস্ব বিভাগের নীলম্বর কুমার সরকার, পার্থ বিশ্বাস ও খুরশিদ পারভেজ, কমার্শিয়াল অডিট শাখার আনিসুজ্জামান। আর তিনজন সহকারী ব্যবস্থাপক হচ্ছেন রেভিনিউ কন্ট্রোল বিভাগের কামরুল হাসান সেলিম, নগদ ও ব্যাংক শাখার এইচ এম শাহফুজ উর রশিদ ও ঢাকা রাজস্ব জোনের স্বপন কুমার চক্রবর্তী এবং বেতন শাখার সহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম…!!

অভিযোগ উঠেছে, বদলি করা এই ৩৭ জন কর্মকর্তার অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে তিতাসের করা তদন্তে ঘুষ-দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে। ওই সব কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর এ সুযোগেই  স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন অনেকেই…!!

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, তিতাসে উেকাচের বিনিময়ে অবৈধ সংযোগ দেওয়া আর অবৈধ সংযোগকে বৈধ না করা, মিটার টেম্পারিং, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল আদায় না করা, বৈধ সংযোগ দিতে হয়রানি, মিটার বাইপাস করে সংযোগ দেওয়া, গ্যাস বিক্রি বেশি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও ভুয়া সংকেত দিয়ে অবৈধ গ্রাহকের কাছে বিল আদায়সহ নানা ধরনের দুর্নীতির হচ্ছে…!!

তিতাসের পরিচালক মোস্তফা কামাল ৩৭ জন কর্মকর্তার বদলি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুদকের প্রতিবেদনের আলোকে মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৩৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটির ১৮টি ভিজিল্যান্স টিম বাতিল করে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে…!!

Leave a Reply