যাত্রীদের সচেতনতার বিষয়টিও জরুরি

বাংলাদেশ

পৃথিবীর সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনেই পরিচালনা করা হয়।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলেও এখানে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। যাত্রীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য যথেষ্ট অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি ও প্রশিক্ষিত জনবল এই বিমানবন্দরে রয়েছে।

তবে মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ শুধু একা সিভিল এভিয়েশন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা করা সম্ভব নয়। এখানে সম্মানিত যাত্রীসাধারণের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। আমি এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করব, যা সব যাত্রীর জানা আবশ্যক।

অনেকে হয়তো বিমানবন্দরে ঢোকার সময় গেটে এবং উড়োজাহাজে ওঠার আগে অ্যান্টি-হাইজ্যাক পয়েন্টে জুতা, বেল্ট, জ্যাকেট, ঘড়ি ইত্যাদি খুলতে গিয়ে বিরক্ত বোধ করেন। কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত ও অন্য সব যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে এটা করা এবং নিরাপত্তাকর্মীকে সহায়তা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

শুধু এই বিমানবন্দরেই না, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের বিমানবন্দরেই আপনাকে এভাবে সহযোগিতা করতে হবে। তবে নিরাপত্তা হুমকির রকমভেদে কোথাও কোথাও এ ব্যবস্থা শিথিল বা আরও বেশি জোরালো করা হতে পারে। তাই কষ্ট এড়াতে যাত্রীদের আন্তর্জাতিক বহির্গমনের সময় ন্যূনতম তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে এবং অভ্যন্তরীণ বহির্গমনের সময়ের এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে হাজির হওয়া উচিত।

এখানে উল্লেখ্য, কিছু সম্মানিত বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত যাত্রী অনেক সময় যাত্রা শুরুর শেষ মুহূর্তে এসে হাজির হন। এতে করে নিরাপত্তা তল্লাশি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ তাড়াহুড়া করে সারা হয়, যা সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি যখন তাঁর বৈধ অস্ত্র নিয়ে শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে আসেন, তখন তাঁর নিরাপত্তা তল্লাশি, ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করাসহ অন্যান্য কাজ সমাধা করতে এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। তাই বৈধ অস্ত্র বহনকারী যাত্রীদের (অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে) যাত্রা শুরুর ন্যূনতম ৩০ মিনিট আগে বিমানবন্দরে হাজির হওয়া উচিত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিআইপিদের প্রটোকলে থাকা ব্যক্তিরা নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাড়াহুড়া করে থাকেন, যা মোটেই অভিপ্রেত নয়।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সম্মানিত যাত্রী, সাধারণ বা ভিআইপি যে–ই হোন না কেন, তাঁর নিজ ব্যাগ চেক-ইন কাউন্টারে গিয়ে নিজেকে চিহ্নিত করে দিয়ে আসতে হবে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ কাজ প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা করে থাকেন। এ কারণে ভিআইপি নিজেই হুমকির মুখে থাকেন। কারণ, তিনি নিজেই জানবেন না পথে ওই ব্যাগে কোনো বিস্ফোরক বা আপত্তিকর বা অবৈধ বস্তু ঢোকানো হয়েছে কি না।

যা হোক, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রধান দায়িত্ব বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই সবার দৃষ্টি তাদের ওপর। শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আর প্রশিক্ষিত জনবল থাকা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের শর্ত নয়, এর সঙ্গে দরকার নিবিড় পর্যবেক্ষণ আর সার্বক্ষণিক নজরদারি। এর সঙ্গে সঙ্গে জনবলের ঘাটতি মেটাতে অনতিবিলম্বে নতুন নিয়োগ শুরু করা উচিত। দেশের মানুষ তাদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিকে নিয়ে গর্ব করতে চায়। সবার সম্মিলিত চেষ্টা থাকলেই এই বিমানবন্দরকে সুরক্ষিত ও অনন্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

এম কে জাকির হাসান অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাবেক পরিচালক।

Leave a Reply