শীর্ষ আলেমদের নিরাপত্তায় দেহরক্ষী রাখা জরুরি: আল্লামা শফি

ইসলাম

বাংলাদেশসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্যে রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, পৃথিবীতে আজ মুসলমানরা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার। বড় সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা জীবনযাপন করছে। পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম দেশ শত্রুদের দ্বারা আক্রান্ত। পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতির কালো থাবা মুসলিম উম্মাহকে পর্যুদস্ত করে চলেছে। এমন সংকটময় মুহূর্তেও প্রত্যেক দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা দিকহারা উম্মাহর পথ প্রদর্শনে নিয়োজিত আছেন। ফলে মুসলিম উম্মাহ এখনো সত্য ও সঠিক পথের ওপর টিকে আছেন।

কিন্তু ইহুদি-খ্রিস্টান এবং শিয়া সম্প্রদায় মুসলিম উমাহকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়ার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় আলেমদের হত্যার টার্গেট নিয়েছে। এই অপচেষ্টায় যদি তারা সফল হয়ে যায়, তাহলে মুসলিম উম্মাহ সহজেই দিক হারিয়ে ফেলবে। তাই উম্মাহর পথ প্রদর্শকদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে সন্ত্রাসীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় আলেম মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানির ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি এবং তার স্ত্রী সুস্থ আছেন। কিন্তু দেহরক্ষী শাহাদাতবরণ করেছেন এবং দুজন আহত হয়েছেন। আমি শহীদদের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

এমন জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আগামীতে আরো জোরদার হতে পারে। বাংলাদেশে এমনটা হবে না তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যায় না। নবী করিম (সা.) নিজের দেহরক্ষী নিয়োগ করেছিলেন। আল্লাহতায়ালা যখন নবীজির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন, তখন থেকে তিনি দেহরক্ষী রাখতেন না। তাই আমি মনে করি, শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য দেহরক্ষী রাখা জরুরি। কারণ তারা দেশের অমূল্য সম্পদ এবং উম্মাহর পথ প্রদর্শক। কাজেই দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

Leave a Reply