বিরল রেকর্ড গড়লেন মালিঙ্গা,,,!!

খেলাধুলা

মালিঙ্গার এক সময়  দলে জায়গা হবে কি? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক করেছিলো সমর্থকদের মনে…!!

দলে ফিরলেন।হলেন দলনেতা।দিন শেষ মালিঙ্গার।এমন তকমা এঁটে দিয়েছে খোদ শ্রীলঙ্কা।তাই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) একাদশ আসরে দলে জায়গা হয়নি।নাটকীয়তার শেষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং পরামর্শকের দায়িত্ব সামাল দেন এই গতি দানব।নিজ দেশের মতো চোখ খুলেছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্জাইজি কর্তৃপক্ষের।এবার সেই মুম্বাইয়ের সেরা অস্ত্র মালিঙ্গা।যেমনটা তিনি দেশেরও।শুধু দলেই ফিরেননি, বাদ পড়া সেই মালিঙ্গা গড়লেন ক্রিকেটইতিহাসে নয়া নজির…!!

 তিনি নজির গড়েছেন, যা আপনার কাছে মনে হবে অবিশ্বাস্য।দু’টি ম্যাচের মধ্যে ১০ ঘণ্টারও কম ব্যবধান। পাশাপাশি দু’টি মাঠে পাড়ার ক্লাব ক্রিকেট নয়। বরং দু’টি আলাদা দেশের প্রথমসারির ঘরোয়া ম্যাচ৷ উঠতি কোনও ক্রিকেটারের বড় মঞ্চে নিজেকে উত্তোরণের অদম্য ইচ্ছা থাকলে এমনটা মেনে নেওয়া যায় বটে, তবে ক্যারিয়ারের সাহাহ্নে এসে দাঁড়ানো ৩৫ বছরের এক পেসারের এমন কঠোর ক্রিকেট সাধনা ক্রীড়াবিশ্বে বিরল। ঠিক এমনই নিষ্ঠা চোখে পড়ল শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ পেসার লসিথ মালিঙ্গার মধ্যে…!!

 লঙ্কান বোর্ড নিয়ম করেছেন বিশ্বকাপের আসরে খেলতে হলে নিজ দেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতে হবে।আর না হয় জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো যাবে না! সুতরাং বিশ্বকাপ দলে বিবেচিত হতে হলে শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে অধিনায়ক মালিঙ্গাকে ঘরোয়া লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলা ছাড়া উপায় নেই।তাই আইপিএলকে না বলেন মালিঙ্গা।তাই ওই সময় খবর প্রকাশ করেছি প্রথম দিকে আইপিএল খেলতে পারবেন না মালিঙ্গা…!!

 শ্রীলঙ্কান বোর্ড তাকে গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে আইপিএল খেলার আনুমতি দিয়েছে। যার অর্থ ঘরোয়া ওয়ানডে টুর্নামেন্টে মাঠে নামার কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না তার। তা সত্ত্বেও ৩ মার্চ, চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে ওঠার ঠিক পরের দিন সকালেই দেশে ফিরে ডোমেস্টিক সুপার ফোর ম্যাচে মাঠে নামেন মালিঙ্গা…!!

“ওয়াংখেড়ে থেকে টিম হোটেলে ফেরেন গভীর রাতে।ভোরের বিমানে কলম্বো উড়ে যান মালিঙ্গা। সেখান থেকে সড়কপথে ক্যান্ডিতে রওনা দেন গলের হয়ে ক্যান্ডির বিরুদ্ধে লিস্ট-এ ম্যাচে মাঠে নামার জন্য। গত প্রথমে ব্যাট করায় কিছুটা বিশ্রাম পেয়ে যান মালিঙ্গা।তবে বোলিং করতে নেমে এমন আগুন ঝরাবেন, তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেনি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটমহল।পাল্লেকেলেতে প্রথমে ব্যাট করে গল ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান তোলে। মালিঙ্গা মাত্র ২ রান করে আউট হন। বল হাতে নিয়ে মালিঙ্গা ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং গড় উপহার দেন। ৯.৫ ওভারে ৪৯ রানের বিনিময়ে ৭ উকেট দখল করেন তিনি। ক্যান্ডি ১৮.৫ ওভারে ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। গল ১৫৬ রানে ম্যাচ জেতে…!!

বুধবার ওয়াংখেড়েতে আইপিএল ম্যাচ শেষ হয় রাত ১২টা নাগাদ। যেখানে মালিঙ্গা ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন।পরের দিন সকাল ৯টা ৪৫মিনিট নাগাদ পাল্লেকেলেতে শুরু হয়ে শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ওয়ানডে ম্যাচে। সুতরাং দু’টি আলাদা দেশে দশ ঘণ্টারও কম ব্যবধানে দু’টি ফর্ম্যাটে মাঠে নেমে মালিঙ্গা মোট দশটি উইকেট দখল করেন। এমন নজির ক্রিকেটবিশ্বে সত্যিই বিরল…!!

Leave a Reply